Thursday, May 16, 2024

কোলকাতার কাছেই বেড়ানোর নতুন ঠিকানা ,শংকর মঠ ও মিশন, বারাসাত

 

কীভাবে যাবেন

শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে চলে আসুন বারাসত রেল স্টেশনে। সেখানে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের টিকিট কাউন্টারের সামনে দিয়ে বের হয়ে টোটো ধরে নিন। চলে আসুন চাঁপাডালি মোড়ে। সময় লাগবে ১০ মিনিট। ভাড়া ১০ টাকা। চাঁপাডালি মোড় থেকে রাস্তা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। একটি রাস্তা চলে যাচ্ছে বনগাঁর দিকে। অন্যটি যাচ্ছে টাকি হয়ে বসিরহাটের দিকে। চাঁপাডালি মোড় থেকে যেতে হবে টাকি-বসিরহাটের দিকে। আর গাড়ি নিয়ে আসলে মধ্যমগ্রাম হয়ে আসতে হবে বারাসত চাঁপাডালি মোড়ে। সেখান থেকে যেতে হবে টাকি বা বসিরহাটের দিকে। অথবা, চাঁপাডালি মোড়ে অটোয় উঠে বলতে হবে বারাসত বাস ডিপো স্টপেজে যাবেন। ভাড়া ১০ টাকা। বারাসত বাস ডিপোয় নামলেই দেখা যাবে শংকর মঠ মিশনের তোরণ। যেখানে লেখা আছে শ্রীকৃষ্ণপুর রোড। সেই তোরণের রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। কিছুটা এগোলেই দেখা যাবে বিশাল এক শিবমূর্তি। যেটা আসলে একটা মন্দিরের ওপর রয়েছে। তার পাশের রাস্তা দিয়ে একটু এগোলেই দেখা যাবে শংকর মঠ মিশন। তোরণ থেকে সেখানে হেঁটে যেতে সময় লাগবে পাঁচ মিনিট।

শংকর মঠ ও মিশনের মূল মন্দিরের




মন্দিরের বিবরণ 

মন্দিরের সামনে বিশাল চত্বরে। যা অসংখ্য গাছ-গাছালিতে ভরা। আর, মন্দির চত্বরে মূল মন্দিরের প্রায় পাশেই রয়েছে জ্যোতিশ্বরানন্দ আই ফাউন্ডেশন। যেখানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ছানি অপারেশন, ডায়াবেটিক ক্যাম্প, মেডিসিন, হোমিও ও স্বাস্থ্য শিবির বসে। ২০০৮ সালে এই মঠের উদ্বোধন হয়েছে। কলকাতায় শংকর মঠ ও মিশনের আরও চারটি মঠ আছে। পাশাপাশি রয়েছে ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্কুল। সঙ্গে ৫০ টাকা দিয়ে ভোগপ্রসাদের ব্যবস্থাও আছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে সবার ওপরে বেদীর ওপরে রয়েছে ওঁ-এর ধাতব আকৃতি। তার সামনে আছে শিবলিঙ্গ। যার পাশে আছে নন্দী আর পিছনে ত্রিশূল। গর্ভগৃহের সামনে নাটমন্দিরে রয়েছে আটটি পিলার। নাটমন্দিরের ওপরের কারুকার্যও দেখার মত। নাটমন্দিরে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি দরজা।




অবিভক্ত বাংলার আধ্যাত্মিক পূণ্যভূমি চট্টলার মিরেরসরাই উপজেলার রাজাপুর গ্রামে ১৩১৫ বঙ্গাব্দের ৫ই অগ্রহায়ন পরমহংস শ্রী শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তার মধ্যে মানব সেবার লক্ষণ ও ধর্মের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ পায়। ১৭ বৎসর বয়সে ঈশ্বর লাভের উদগ্র বাসনায় সংসার ত্যাগ করে আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর গুরু পরমহংস শ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দের চরণে। গুরুর আদেশে তিনি ১৯২১ সালে তিনি সীতাকুন্ডে প্রতিষ্ঠা করেন শংকর মঠ ও মিশন। শ্রী শংকরের জীবনাদর্শকে চলার পথের আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করে এতদাঞ্চলের মানুষের কাছে গীতার বাণী প্রচারের মহানব্রতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন তিনি। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যে সময় একেবারেই অনুন্নত সে সময় তিনি পায়ে হেটে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা সহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল পরিভ্রমণের মাধ্যমে গীতার বাণী প্রচার করেছেন। সুদীর্ঘকাল গীতার জ্যোতি ছড়িয়ে ২০০৬ সনের ০২ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে স্থুল দেহ ত্যাগ করে মহাসমাধি লাভ করেন পরমহংস শ্রী শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ।

শিবলিঙ্গ, ওঁ-এর ধাতব আকৃতি

শ্রী শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ।




No comments:

Post a Comment